ইজরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে প্যালেস্তাইনের পাশে দাঁড়াল শিশুরা

Date:

Share post:

কলকাতা: প্যালেস্তাইনের জন্যে কয়েকশো শিশুর স্লোগান ধ্বনিত হল রবিবারের মধ্য কলকাতায়। কনসার্নড সিটিজেনস অফ কলকাতা (সিসিকে) নামে একটি গোষ্ঠী, যারা গত ১৭ নভেম্বর থেকে ইজরায়েলি ও আমেরিকান পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে, তারা এই মিছিলের আয়োজক। প্যালেস্তাইনে, বিশেষত গাজায়, চলতি ইজরায়েলি গণহত্যা র বিরুদ্ধে আয়োজিত এই মিছিলের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘উই ইন্ডিয়ান চিলড্রেন ফর প্যালেস্তিনিয়ান চিলড্রেন’। সিসিকের স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুদের সহায়তার জন্য ছিলেন। তাছাড়া বেশকিছু মহিলা এবং শিশুদের অভিভাবকও এই মিছিলে যোগ দেন।

প্রতীকী কফিন হাতে ধরে থাকা একটি মেয়ে ইনিউজরুমকে বলল “উৎসবের মরশুমে এই রবিবার শীতের সকালে আমাদের এরকম একটা মিছিলে আসতে হয়েছে, কারণ যুদ্ধ এত শিশু আর মানুষের মৃত্যু আমরা আর দেখতে পারছি না। এটা সত্যিকারের যুদ্ধও নয়। ইজরায়েল আর আমেরিকার বিরুদ্ধে তো কেউ লড়ছে না। ওরা যেমন ইচ্ছে নিরপরাধ মানুষকে মেরে যাচ্ছে।”

তিন বছরের মেয়েকে কাঁধে নিয়ে হাঁটছিলেন এক বাবা, তাঁর স্ত্রী ছিলেন সামনেই। ভদ্রলোক বললে “আমরা পঞ্চান্ন গ্রাম থেকে (প্রায় সাত কিলোমিটার দূর থেকে) এই মিছিলে হাঁটতে এসেছি।”

"প্যালেস্টাইন, গাজা, ইসরায়েলি বয়কট আন্দোলনে কলকাতায় শিশুদের র্যালি।
কলকাতায় তাদের প্রতিবাদ সমাবেশে প্ল্যাকার্ড এবং ইন্ডো-ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে শিশুরা

গত ৮২ দিনে ২০ হাজারের বেশি প্যালেস্তিনীয় ইজরায়েলি বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে গাজা, গাজা স্ট্রিপ, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং রাফার মত একাধিক প্যালেস্তিনীয় শহরে নিক্ষেপ করা বোমায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন থাকা ইজরায়েল কেবল কয়েক হাজার প্যালেস্তিনীয়র বাড়িতেই বোম ফেলেনি, স্কুল, অ্যাম্বুলেন্স, উদ্বাস্তু শিবি এবং সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কেন্দ্রগুলোতেও বোম ফেলেছে। ইজরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী (আইডিএফ) প্যারার-মেডিকাল কর্মী, ডাক্তার আর সাংবাদিকদেরও ছাড়েনি। এখন পর্যন্ত ০-১২ বছর বয়সী ১০,০০০ শিশুকে নির্দয়ভাবে মেরে ফেলা হয়েছে এই আক্রমণে। এছাড়াও ডাক্তার সমেত ৩০০-র বেশি স্বাস্থ্যকর্মী এবং শতাধিক সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষক দাবি করেছেন যে ইজরায়েল সচেতনভাবে শিশুদের লক্ষ করে আক্রমণ করছে যাতে প্যালেস্তাইনের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যায়।

মিছিলের অন্যতম আয়োজক আতাহার ফিরদৌসি বললেন “আমরা এই মিছিলের আয়োজন করেছি কারণ ইজরায়েলি ও আমেরিকান পণ্য বয়কটের অভিযানে আমরা শিশুদের মধ্যে ভাল সাড়া পেয়েছিলাম। তাই আমরা ঠিক করলাম বড়দের আমাদের সময়ের সবচেয়ে জরুরি ইস্যুটা স্মরণ করিয়ে দেব।”

সক্রিয় সমাজকর্মী মনজর জামিল বললেন “এই মিছিল প্রমাণ করে যে ভারতীয় শিশুরা নীরবে গণহত্যা দেখবে না। তারাও ইজরায়েল মানবতার পক্ষে কতটা বিপজ্জনক সে সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছে।”

মেন ফিলিস্তিন হুন কবিতা শুনুন

ইন্ডিয়া স্ট্যান্ডস উইথ প্যালেস্টাইন লেখা টি-শার্ট পরা আরেক কর্মী আজহার সেলিম দাবি করেছেন, “বিশ্ব এমন গণহত্যা দেখেনি। ইসরায়েলি ও আমেরিকান উভয় সরকারই মিথ্যা বলছে। এবং তারা 40-50 বছর ধরে মিথ্যা বলছে। তারা কোট প্যান্ট, ভালো পোশাক পরে এবং দাবি করে যে তারা মানবাধিকারের মশালবাহী; কিন্তু তারা শুধু মিথ্যা কথা বলে। ভারত সর্বদা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং এখানে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে ছোট বাচ্চারাও এই র‌্যালিতে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে অংশ নিচ্ছে যাদের দৃষ্টান্তমূলক সাহস রয়েছে।”

কেন ফিলিস্তিনে যুদ্ধ, যেখানে জন্ম হয়েছিল শান্তির দূতের?

একটি ৭ বছর বড় মেয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করলো বড়দিনের আগে, যখন শান্তির দূত যীশু খ্রীষ্ট ফিলিস্তিনে জন্মনেয়, তখন সেখানে কেন যুদ্ধ হচ্ছে? কেন জেনোসাইড ঘটছে এবং ইসরায়েল প্যালেস্টাইনীয়দের জমি নিয়ে আছে?

তার সমাপনী বক্তব্যে, একজন সুপরিচিত সমাজকর্মী ইমতিয়াজ মোল্লা উল্লেখ করেন, “আমি বেশ কয়েকটি র‌্যালি ও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছি, কিন্তু এমন সুশৃঙ্খল শিশুদের সমাবেশ দেখিনি। আপনারা বৃদ্ধদের জাগিয়ে তুলেছেন যে ফিলিস্তিনে চলমান ইজরায়েলি গণহত্যা র বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ হওয়া উচিত এবং তা বন্ধ করা উচিত, নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা বন্ধ করা উচিত।”

ফিলিস্তিন গাজা ইসরায়েল বয়কট আন্দোলনের জন্য শিশুরা সমাবেশ
ফিলিস্তিন গাজা ইসরায়েল বয়কট আন্দোলনের জন্য শিশুরা সমাবেশ

ইসরায়েলি-আমেরিকান বয়কট আন্দোলন ইজরায়েলি গণহত্যা

মোল্লা অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতিও নেন যে তারা ইসরায়েলি-আমেরিকান পণ্য বয়কট চালিয়ে যাবেন।

17 নভেম্বর শুরু হওয়া, বয়কটের ডাকটি শক্তিশালী হচ্ছে এবং কলকাতায় একটি আন্দোলনে পরিণত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে কৃষক আন্দোলন এবং সিএএ-এনআরসি প্রতিবাদ বিক্ষোভের অনুরূপ এটি দীর্ঘতম প্রচারণাগুলির মধ্যে একটি।

“আমাদের বয়কট আহ্বান চলছে, এবং শিশুদের র্যালি আমাদেরকে এটি একটি বহুজন আন্দোলনে পরিণত করার জন্য আরও কঠিন পরিকল্পনা তৈরি করতে শক্তি দিয়েছে,” এটি আজ করে যোগ করলেন আথার।

এতে শিশুদের নাম উল্লেখ করা হয়নি.

spot_img

Related articles

“We Treat Sleep Like a Waste of Time”: Dr Haseeb Hassan on India’s Growing Sleep Crisis

Dr. Haseeb Hassan warns that treating sleep deprivation as a badge of honor is fueling a massive health crisis among India’s youth, driven by chronic stress and late-night screen exposure.

Dead at 33: Twisha Sharma, Narrative Management, and Elite Patriarchy

Twisha Sharma’s suspicious death has triggered disturbing questions about victim-blaming, elite patriarchy, and how public narratives can overshadow forensic concerns and demands for justice

‘Bulldozers, AI and Freedom of Speech’: Bengal’s New BJP Govt Faces Sharp Questions at Kolkata Roundtable

A Kolkata roundtable debated Bengal BJP government’s healthcare policies, bulldozer actions, freedom of speech concerns, minority anxieties, and AI opportunities, urging constitutional governance and inclusive development over partisan politics

Prescribed an MRI? Fearful of the ‘Tunnel’? Here’s Why Open MRI May Not Always Be the Best Option

Open MRI systems reduce anxiety and improve patient comfort, yet high-field closed MRI scanners still provide superior image clarity essential for detecting strokes, tumors, ligament injuries, and neurological disorders accurately